publish on: Wednesday 31 January 2018

মুমিনুলের দিন, বাংলাদেশের দিন

ফাইল ছবিঃ
দিনের শুরুতে ভাগ্যটাকেও পক্ষে পেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। প্রথম টসেই জয়। ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মাহমুদউল্লাহর চেহরায় ছিল যে আত্মবিশ্বাসের ছাপ, সেটিই অনূদিত হয় তামিম ইকবালের ব্যাটে। ম্যাচেই দ্বিতীয় ওভারেই লাহিরু কুমারাকে মারেন টানা তিনটি বাউন্ডারি।

ম্যাচের আগে উইকেট স্পিনস্বর্গ হবে বলে ধারণা করা হলেও প্রথম দিনে ছিল দারুণ ব্যাটিং সহায়ক। তামিমের ব্যাটে শুরুর সেই দ্যুতি ছিল পরের ওভারগুলোতেও। পেস বলে খেলেছেন দারুণ সব ড্রাইভ। স্পিনে উড়িয়ে মেরেছেন ছয়।

আরেকপাশে ইমরুল ছিলেন টিকে। তামিমের সৌজন্যে জুটির পঞ্চাশ এসে দশম ওভারেই। দশ ইনিংসে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটির প্রথম ফিফটি জুটি। তামিমের পঞ্চাশ ৪৬ বলে।

তামিমের সম্ভাবনাময় ইনিংসটি থামে ফিফটির পরপরই। দিলরুয়ান পেরেরার দারুণ একটি বল আর তামিমের ক্ষণিকের অমনোযোগ, ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ড।

বাংলাদেশের রানের স্রোত তাতে থামেনি। তামিমের বিদায়ে একটু জেগে ওঠেন ইমরুল। মুমিনুল শুরু থেকেই সাবলীল। ২০ ওভারেই দল পেরিয়ে যায় একশ।

তবে তামিমের মত শুরুটাকে বড় করতে পারলেন না ইমরুলও। বিরতির আগে বাংলাদেশের উইকেট হারানোর পুরোনো ধারাকে ধরে রেখে লাঞ্চের আগের ওভারে আউট বাঁহাতি ওপেনার। অন্য প্রান্তে মুমিনুলের সঙ্গে কথা বলেও এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্তে রিভিউ নিলেন না। টিভিতে বল ট্রাকিংয়ে দেখা গেল, বল চলে যেত স্টাম্পের ওপর দিয়ে!

সেই হতাশা বাংলাদেশ ঝেড়ে ফেলে দ্রুতই। মুমিনুলের নান্দনিকতা আর মুশফিকের দৃঢ়তায় ছোটে রানের রথ। পঞ্চাশ, শতরান পেরিয়ে দুজনের জুটি এক সময় গড়ে ফেলে বাংলাদেশের রেকর্ড। পেছনে পড়ে যায় ১৫৭ রানের আগের রেকর্ড। ছাড়িয়ে যায় দুইশ রানও।

এই পথচলাতেও রচিত হয় আনন্দদায়ক সব গল্প। ৯৬ বলে মুমিনুল স্পর্শ করেছেন সেঞ্চুরি। প্রথম ১২ টেস্টেই ৪ সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান পঞ্চম সেঞ্চুরিটি পেলেন ১৩ টেস্ট অপেক্ষার পর! বাংলাদেশের হয়ে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি।