publish on: Thursday 30 November 2017

উন্নতির মধ্যেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

ফাইল ছবিঃ
কিন্তু নানা ঘটনায় এবং সরকারের অনেক পদক্ষেপে সচেতন মানুষ শঙ্কার সঙ্গে লক্ষ করছে যে দেশ ক্রমেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সমাজে সাধারণভাবে ধর্মীয় রক্ষণশীলতা বাড়ছে, ধর্মীয় উগ্রবাদী নানা সংগঠনের সাম্প্রদায়িক দাবিদাওয়ার প্রতি সরকার নমনীয় এবং এসব সংগঠনের সঙ্গে আপস করে চলছে—যদিও সবাই জানি এসব সংগঠন ও তাদের দাবিগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। দেশে সাম্প্রদায়িক মনোভাব বেড়েছে, যা পাঠ্যবই ও শিক্ষা পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। বলা দরকার, এ ধরনের কাজ পাকিস্তান সরকার চেষ্টা করেও এ দেশে জায়মান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কারণে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বর্তমানে সমাজে যেসব প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক মানবিক চেতনার সাংস্কৃতিক কাজকর্ম চলে, তাতে আওয়ামী লীগ বা তাদের অঙ্গসংগঠন ও তাদের নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। বিপরীতে তাদের ঘনিষ্ঠতা দেখা যায় ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের সঙ্গে। হয়তো মনে করিয়ে দিতে হবে না, গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান এবং গুরুত্ব লাভের ঘটনা কী পরিমাণ ঘটছে সেসব কথা। মাঠপর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের অর্থোপার্জন ও ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজে দৃশ্যমানভাবেই ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত অনিবার্য এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে কয়েক বছর ধরে উপদলীয় কোন্দলের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এসব ঘটনায় গত কয়েক বছরে কেবল ছাত্রলীগেরই কয়েক ডজন নেতা–কর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। আশঙ্কা হয়, সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে এই অন্তর্দলীয় ব্যক্তিস্বার্থের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করবে এবং আরও মৃত্যুর কারণ ঘটাবে।